• চাণক্য বাংলা

উত্তাল হতে পারে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে, নয়া সভাপতির পক্ষে সোনিয়া


বর্ষীয়ান নেতাদের চিঠির প্রত্যুত্তরে হাতে লেখা একটি নোট পাঠিয়েছেন সোনিয়া।

শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, তিনি এখনও অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেননি। কিন্তু দলের খোলনলচে বদলের দাবি তুলে চিঠির পর সোমবার কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সোনিয়া গান্ধী সেই কাজটাই করতে পারেন। এমনটাই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

একাধিক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং সাংসদ-সহ ১০৩ জন নেতার সেই চিঠিতে ১৩৪ বছরের পুরনো দলের নেতৃত্ব নিয়ে 'বিবাদ' এবং 'অনিশ্চয়তা'-র অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাতে সই করেছেন কপিল সিব্বল, গুলাম নবি আজাদ, শশী থারুর, মণীশ তিওয়ারি, মিলিন্দ দেওরার মতো নেতারা। যে চিঠি স্বাধীনতা দিবসে ১০ জনপথে পাঠানো হয়েছিল।

‘হিন্দুস্তান টাইমস’ জানতে পেরেছে, চার মাস ধরে আলোচনার পর সেই চিঠি লিখেছেন বর্ষীয়ান নেতারা। তেমন একজন পিজে কুরিয়েন জানিয়েছেন, ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের পর চিঠির যাবতীয় তথ্য প্রকাশ করা হবে। চিঠিতে স্বাক্ষর করা অপর এক নেতা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিরক্তি বাড়ছিল। তার জেরে বাধ্য হয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাঁর কথায়, 'বর্ষীয়ান নেতারা গান্ধীদের দ্বারস্থ হতেন। কিন্তু সুরজেওয়ালার সঙ্গে কথা বলতে বলা হত। এই বর্ষীয়ান নেতাদের মধ্যে কয়েকজন কীভাবে তাঁর (সুরজেওয়ালা) থেকে ব্যাখ্যা চাইতে পারেন?


তবে সেই বর্ষীয়ান নেতাদের বিরোধী অংশের এক কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করতে তাঁরা চিঠি লিখেছেন, সেটা ঠিক আছে। উদ্বেগের বিষয় হল যে তা নিয়ে তাঁরা বৈঠক করছিলেন। তার মানে তাঁরা সক্রিয়ভাবে দলে পরিবর্তন চাইছেন।’ সংবাদমাধ্যমেও চিঠির বয়ান ফাঁস হয়ে যাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কংগ্রেসের একটি অংশ। এক নেতা ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-কে জানিয়েছেন, সোমবার ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে নেতৃত্বের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে বাধ্য করার জন্যই সংবাদমাধ্যমে সেই চিঠি ফাঁস করা হয়েছে।

সেই চিঠির প্রত্যুত্তরে হাতে লেখা একটি নোট পাঠিয়েছেন সোনিয়া। দুই বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতার বয়ান অনুযায়ী, সোনিয়া জানিয়েছেন যে তিনি আর কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চান না। যে কংগ্রেস নেতারা চিঠি দিয়েছেন, মিলিতভাবে তাঁদেরই দলের প্রধান খুঁজে দেওয়া উচিত।

গত লোকসভা কংগ্রেসের ভরাডুবির দলের সভাপতিত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে গান্ধী পরিবারের বাইরে থেকে কাউকে দলের শীর্ষ পদে বসানোর পক্ষেও সওয়াল করেছিলেন। শেষপর্যন্ত সোনিয়াকে অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি পদে বসিয়ে সামাল দেওয়া হচ্ছিল। সেই মেয়াদ এক বছর পার হওয়ার পর গত ১০ অগস্ট দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে যখন তাঁকে আরও একবার সভাপতি হওয়ার আর্জি জানানো হয়েছিল, তখনও তিনি সেই একই কথা বলেছিলেন। অসংখ্যবার জোরাজুরির পর অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন সোনিয়া। তবে শর্ত দিয়েছিলেন যে তাঁর পরিবর্তে দ্রুত কাউকে দলের মসনদে বসানো হবে।


দুই নেতা জানিয়েছেন, দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে পদত্যাগ করার দিকেই ঝুঁকে আছেন সোনিয়া এবং নেতৃত্বের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য ডেকেছেন তিনি। এক নেতা বলেন, 'যদি তিনি পদত্যাগ করেন, তাহলে সোমবার ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে তা করতে পারেন তিনি (সোনিয়া)।' যে বৈঠক যথেষ্ট উত্তাল হতে পারে বলে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য। বিশেষত সিব্বল, আজাদের মতো যে নেতারা দলের পরিচালনা নিয়ে বিরক্ত, তাঁদের সঙ্গে রণদীপ সুরজেওয়ালা, কে সি ভেনুগোপালদের মতো বর্তমান পদাধিকারীদের বিবাদ চরমে উঠতে পারে।