• chanakyabangla

করোনা আক্রান্তের নিরিখে দেশের শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ, মৃত্যুহারে দ্বিতীয়


করোনা আক্রান্তের নিরিখে দেশের শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ, মৃত্যুহারে দ্বিতীয়


জুলাই থেকেই বাংলায় গোষ্ঠী সংক্রমণ! নীরবতা ভাঙলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চানক্য বাংলা ওয়েব ডেস্ক:

জুলাই মাস থেকেই বাংলায় শুরু হয়ে গিয়েছে গোষ্ঠী সংক্রমণ! সে কথা অক্টোবরের মাঝামাঝিতে এসে স্বীকার করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেছেন সেপ্টেম্বর মাসে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের সোমবারের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত অ্যাক্টিভ কেসের নিরিখে দেশের শীর্ষস্থানে রয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গে’র নাম। মৃত্যুর সংখ্যায় মহারাষ্ট্রের পরেই।

বাংলার এই উদ্বেগজনক করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই ছাড় পেয়েছে দুর্গোৎসব। যা এখন কেন্দ্র এবং রাজ্যকে ভ্রুকুটি দেখাচ্ছে! বলা বাহুল্য, এই উৎসব এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই সরকারের। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী নাছোড়বান্দা ‘বাংলায় দুর্গাপুজো হবেই, কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে’!


ঠিক কী পরিস্থিতি আমাদের রাজ্যে?

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের সোমবার সকালের রিপোর্ট বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৫,৭২২টি পজিটিভ কেস ধরা পড়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৫৭৯ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর নিরিখে মহারাষ্ট্রের পরেই রয়েছে বাংলা! মহারাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ১৫০ জন। বাংলায় সংখ্যাটা ৬৪। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৬টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অ্যাক্টিভ রোগী বেড়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ (৮০৬)। এরপরেই রয়েছে যথাক্রমে দিল্লি (৪০৮), উত্তরাখণ্ড (১৯০), নাগাল্যান্ড (৫৩), মণিপুর (১৯), আন্দামান (৫)। সোমবার নয়া সংক্রমণের সঙ্গে ভারতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫ লক্ষেরও বেশি। সোমবার পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬৬ লক্ষের বেশি মানুষ। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) জানাচ্ছে, ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ৯ কোটি ৫০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৯৭৬টি নমুনা টেস্ট হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, ৭০ শতাংশ মৃত্যুর কারণ কো-মর্বিডিটিস। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের তরফেও একই দাবি করা হয়েছে।

কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ কমিটির ভবিষ্যদ্বানী, মোট সংক্রমণের নিরিখে ভারত রয়েছে দু-নম্বরে। আমেরিকার ঠিক পরেই। উত্‍‌সবের মরশুমে চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন না করলে এক মাসের মধ্যে ভারতের আরও ২৬ লক্ষ নাগরিক করোনায় আক্রান্ত হবেন।


সম্প্রতি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি জনসভা থেকে গোষ্ঠী সংক্রমণের কথা বলতে শোনা গিয়েছিল। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে কেন্দ্রের তরফে তা স্বীকার করা হয়নি এতদিন। রবিবারই সাপ্তাহিক এক ওয়েবিনারে হাজির হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন প্রথম বললেন, ভারতে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হচ্ছে। আবার এও জানালেন সংক্রমণ এখনও পর্যন্ত কয়েকটি জেলাতেই সীমাবদ্ধ। সবচেয়ে আশঙ্কার কথা, গোষ্ঠী সংক্রমণের আওতায় থাকা রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নাম। আর তা জুলাই মাস থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে বাংলায়! বাম, কংগ্রেসের মতো সর্বভারতীয় বিরোধী দলনেতারা শুরু থেকেই দাবি করেছিলেন, কেন্দ্র-রাজ্য উভয়ই করোনা সংক্রমণের সংখ্যা আড়াল করছে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখেও শোনা গিয়েছে, ভারত করোনা সংক্রমণের তথ্য লোকাচ্ছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ভারত। অস্বীকার করেছে পশ্চিমবঙ্গও।


গোষ্ঠী সংক্রমণ কী? কেন ভয়?

যখন কোনও সংক্রমণ বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আর সংশ্লিষ্ট সংক্রমণের উৎস খুঁজে পাওয়া যায় না, তখনই মনে করা হয় ওই এলাকায় গোষ্ঠী সংক্রমণ চলছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা এই জায়গাতেই। দুর্গাপুজো শুরু হয়েছে গিয়েছে। আগামীকাল চতুর্থী। এখন থেকেই প্যাণ্ডেল হপিংয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছে মানুষ। প্রশ্ন— মাস্ক, স্যানিটাইজার কি বেলাগাম ভিড়ে আদৌ ধোপে টিকবে? দুর্গা উৎসবে ছাড় দেওয়া হয়েছে, অথচ জনপ্রচার চলছে, ‘ভিড়ে নয়, ঘরে বসে ঠাকুর দেখুন’। তা কি সম্ভব? ক’টা মানুষকে আটকে রাখা যাবে? একেই যে সকল মানুষগুলো মুখের বদলে গলায় মাস্ক ঝুলিয়ে ঘুরে বেরাচ্ছেন। ভিড়ের মধ্যে সেই মানুষগুলো মিশে থাকলে তার দায় কে নেমে? কোভিড পরিস্থিতিতেও পুজোর জন্য ক্লাবের টাকা বিতরণ হয়েছে। তবে কী করোণা সংক্রমিতদের জন্য অনুদান ঘোষণা হবে?