• chanakyabangla

করোনার জেরে মার্চের শেষে দেশজুড়ে আচমকা লকডাউন।


করোনার জেরে মার্চের শেষে দেশজুড়ে আচমকা লকডাউন।

চানক্য বাংলা ওয়েব ডেস্ক:

তার জন্য বিপাকে পড়েন লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। অনাহারে, অসুস্থ হয়ে মারা যান বহু। অনেকে আবার পায়ে হেঁটে গ্রামে ফেরার সময় প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার কেন্দ্র সংসদে স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এই লকডাউনে কত জন পরিযায়ী প্রাণ হারিয়েছেন তার হিসেবই রাখা হয়নি। 

এদিন বাদল অধিবেশন শুরু হয়। সেখানেই প্রশ্ন রাখা হয়, কত জন পরিযায়ী প্রাণ হারিয়েছেন এই লকডাউনে। যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা কি কেন্দ্র করছে। লিখিত জবাবে কেন্দ্রী শ্রম এবং কর্মসংস্থান মন্ত্রক জানিয়েছে, কত জন মারা গেছেন তার পরিসংখ্যান নেই। সেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। 

শুধু তাই নয়, কেন্দ্র একথাও জানিয়েছে, এই লকডাউনে কত জন দেশে কাজ হারিয়েছেন, তার খতিয়ানও রাখা হয়নি। 

অথচ বিশ্ব ব্যাঙ্ক এপ্রিলে জানিয়েছে, লকডাউন চার কোটি পরিযায়ী শ্রমিকের জীবনে প্রভাব ফেলেছে। শুধু এপ্রিলেই কাজ হারিয়েছেন ১২ কোটি ১৫ লক্ষ দেশবাসী। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হকার, দিনমজুর, ছোট ব্যবসায়ী। তাঁদের মধ্যে ন’‌ কোটি ১২ লক্ষেরই আর কাজ নেই হাতে। 

সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি জানিয়েছে, দেশে রোজগেরেদের মধ্যে ৩৫ শতাংশই এই হকার, দিনমজুর, ছোট ব্যবসায়ী। এদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয় না। তাই লকডাউনের ধাক্কা তাঁদের ওপরই পড়েছে বেশি। 

তাহলে সরকার কি এই পরিযায়ীদের সমস্যা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে?‌ কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ার বলেন, ‘‌একটি রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, স্বাস্থ্য কর্মী, সাফাইকর্মী ও বহু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা একযোগে করোনা ভাইরাস এবং লকডাউনের মোকাবিলায় কাজ করছে।’

তিনি সংসদকে আরও জানান, মার্চ মাসে লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পর প্রায় ১.০৪ কোটি পরিযায়ী শ্রমিক নিজেদের বাড়ি ফেরেন। ৪ হাজার ৬১১টিরও বেশি শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন ১ মে থেকে চালিয়েছে রেল। ৬৩.০৭ লক্ষের বেশি পরিযায়ী শ্রমিককে গ্রামে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলোকে ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।