• chanakyabangla

কেবল গরু নয়, কয়লা পাচারচক্রের সঙ্গেও যুক্ত এনামুল, সিবিআই তদন্তে ইঙ্গিত


চানক্য বাংলা ওয়েব ডেস্ক:

কেবল গরু নয়, কয়লা পাচারচক্রের সঙ্গেও যুক্ত এনামুল, সিবিআই তদন্তে ইঙ্গিত


দিল্লি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কথা ছিল জামিনের পর গরু পাচারের অভিযোগে ধৃত ব্যবসায়ী মহম্মদ এনামুল হককে সিবিআইয়ের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এবং অভিযুক্তের আত্মসমর্পণের আট ঘণ্টার মধ্যে তাকে নির্দিষ্ট আদালতে পেশ করতে হবে সিবিআইকে। ঠিক তেমনটাই হল। সোমবার কলকাতা সিবিআইয়ের দফতর নিজাম প্যালেসে এসে আত্মসমর্পণ করে এনামুল। সেখানে তাকে বেশ খানিকক্ষণ জেরা করেন তদন্তকারী অফিসাররা। গরু পাচারকাণ্ডে কোন প্রভাবশালী যুক্ত, পাচারচক্রের টাকা কোথায় কোথায় যেত সেইসবের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা করছে সিবিআই। এছাড়াও শুধু গরু পাচার নয়, এনামুল কয়লা পাচারের সঙ্গেও যুক্ত বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সিবিআইয়ের হাতে।


সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এদিন আরও এক প্রভাবশালীকে পাচারচক্রে জড়িত সন্দেহে ডাকা হয়। দু’জনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে। সিবিআই আধিকারিকদের কাছে এনামুল দাবি করেছে, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন। বড় চক্রান্ত চলছে তার বিরুদ্ধে। কেন্দ্ৰকে ট্যাক্স দেয় সে। অন্যদিকে, এদিন নিজেকে কোভিড আক্রান্ত বলেও দাবি করে নথিপত্র দেখায় এনামুল। এরপরই তাকে বেলেঘাটা আইডিতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সিবিআই। তদন্তকারী অফিসারদের কাছে যে নথি পেশ করা হয়েছে, আদৌ সত্য কিনা, তা যাচাইয়ের পাশাপাশি এনামুলের আরও একবার কোভিড টেস্ট করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। অন্য দিক আরও জানা গিয়েছে, যদি এনামুল করোনা আক্রান্ত হয়ে থাকে তাহলে আজকের মতো তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। তা নাহলে দিল্লি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আজকেই এনামুলকে আদালতে পেশ করা হতে পারে। এবং নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আর্জি জানাতে পারেন গোয়েন্দারা।

প্রসঙ্গত, গরু পাচারকাণ্ডের মূলচক্রী এনামুলের সঙ্গে রাজ্যের এক কুখ্যাত কয়লা মাফিয়া অনুপ মাঝি ওরফে লালার নামও জড়িয়েছে। দিন কয়েক আগে কলকাতায় শেক্সপিয়র সরণি সহ অনুপ লালার বেশ কয়েকটি বাড়ি ও অফিসে রেড করেন আয়কর দফতরের আধিকারিকরা। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় বহু নথি। এনামুলের সঙ্গে অনুপের যোগও মেলে। জানা গিয়েছে, লালা মুর্শিদাবাদ থেকে উত্তরবঙ্গে কয়লা পাচার করত। সেই কয়লা এনামুলের ট্রান্সপোর্টে করে পাচার করা হতো। কোটি টাকার ওপরে ডিল হতো তাদের। পাচারের প্ল্যান করা হতো পার্ক সার্কাস, তপসিয়া ও নিউটাউনের কয়েকটি আবাসনে। এই নিয়ে আয়কর দফতরের কাছে তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে সিবিআই।