• chanakyabangla

চিনকে কোণঠাসা করতে নয়া ঐতিহাসিক চুক্তি! ভারতকে স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করবে আমেরিকা


চিনকে কোণঠাসা করতে নয়া ঐতিহাসিক চুক্তি! ভারতকে স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করবে আমেরিকা

চানক্য বাংলা ওয়েব ডেস্ক:

মঙ্গলবার ভারত-আমেরিকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হল রাজধানীতে। এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত ঐতিহাসিক বেসিক এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড কোঅপারেশন এগ্রিমেন্ট ফর জিও-স্পেশ্যাল কো-অপারেশন (বিইসিএ) স্বাক্ষরিত হল। বৈঠক মূলত চিন বিরোধিতাকে সুসংহত করতে এবং কৌশলগত সম্পর্ককে এক অন্য মাত্রা দিতে চুক্তি স্বাক্ষর করল দুই দেশ।

গতকালই ভারতে এসেছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেও এবং প্রতিরক্ষা সচিব মার্ক এস্পার। মঙ্গলবার তাঁরা ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে 'টু প্লাস টু' বৈঠকে যোগ দেন। আলোচনার মধ্যে দিয়ে স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক বিইসিএ চুক্তি। এই চুক্তি অনুযায়ী, ভারতীয় এবং মার্কিন ফৌজের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান আরও মজবুত হবে। অন্যদিকে, এদিন সাউথ ব্লকের মাইক পম্পেও এবং মার্ক টি এস্পারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। করোনা মহামারীতে সামাজিক দূরত্ব অনুসরণ করে মার্কিন সচিবদের সঙ্গে ‘কনুই বাম্প’ করেন তিনি। যা সারা বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

জানা গিয়েছে, মার্কিন মিলিটারি স্যাটেলাইট থেকে লাইভ ছবি পাবে ভারতীয় সেনা। লাদাখে সংঘর্ষের আবহে চিনা ফৌজের গতিবিধির উপর নজর রাখাটা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভারতের কাছে। তাই এই পদ্ধতি অত্যন্ত উপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বেশ কয়েকটি ইস্যু এবং কৌশলগত গুরুত্বের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষই একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং নিয়ম ভিত্তিক আঞ্চলিক ও বৈদেশিক সুরক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তার জন্য ডোমেনগুলি ভাগ করে নেওয়া নিয়ে দক্ষতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করা হয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই বৈঠকের আগে গতকাল অর্থাৎ সোমবারই পম্পেও এবং এস্পারের সঙ্গে দেখা করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীল এলাকার নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা চুক্তি, উপগ্রহ চিত্র, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, চিনা সেনাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, লাদাখের পরিস্থিতি, দক্ষিণ চিন সাগরে যুদ্ধের সম্ভাবনা, চিনের বিরুদ্ধে কোয়াড গোষ্ঠীর সামরিক পদক্ষেপ-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে তাঁদের মধ্যে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে কোয়াড মন্ত্রিগোষ্ঠীর বৈঠকে একসঙ্গে হয় ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকা। তবে টু প্লাস টু বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয় ছিল, দক্ষিণ চিন সাগরে চিনা আগ্রাসন নীতি। এশিয়ায় চিনের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বাড়বাড়ন্তকে প্রশমিত করতে আগ্রহী আমেরিকাও। এদিকে ভারতের সঙ্গে চিনের সম্পর্কও খুব ভাল পরিস্থিতিতে নেই। গত মে মাস থেকে লাদাখে সীমান্তের যে উত্তেজনা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, দিনদিন তা আরও অবনতি হচ্ছে। তার ওপর করোনা ভাইরাসের জন্য জেরবার বিশ্ববাসী। তাই এই পরিস্থিতিতে দু’দেশের মধ্যে সু-সম্পর্ক থাকায়, চিনের সঙ্গে লড়তে ভারতকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে চায় আমেরিকা। ভারতও আমেরিকার হাত ধরে লাল ফৌজের বিরুদ্ধে আনঅফিসিয়ালি জেহাদ ঘোষণা করতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।