• chanakyabangla

দেশ জুড়ে বিজেপিতে বড়সড় পরিবর্তন, আইটি সেলের প্রধানকে আনা হল বাংলায়


দেশ জুড়ে বিজেপিতে বড়সড় পরিবর্তন, আইটি সেলের প্রধানকে আনা হল বাংলায়

চানক্য বাংলা ওয়েব ডেস্ক:

দেশ জুড়ে বিজেপিতে বড়সড় পরিবর্তন; আইটি সেলের প্রধানকে আনা হল বাংলায়। ২০২১ সালে বাংলা সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে; নির্বাচনের আগে গুটি সাজাচ্ছে বিজেপি। হাতে মাত্র কয়েকমাস সময়; ফলে শুরু হয়ে গিয়েছে জোরকদমে প্রস্তুতি। আর সেইজন্য শুক্রবার দেশের বিভিন্ন রাজ্যের, দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের মধ্যে; বড়সড় রদবদল করল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাখির চোখ যে বাংলা; তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ফের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক; নিযুক্ত হলেন কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। সেই সঙ্গে অরবিন্দ মেননের পাশাপাশি, রাজ্য বিজেপির সহকারী পর্যবেক্ষক হলেন; দলের আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। যা নির্বাচনের আগে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে; মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।


বাংলায় দলের সংগঠন মজবুত করার উপরেই; সবথেকে বেশি জোর দিচ্ছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। এতদিন কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে; বাংলার দায়িত্ব ছিল মূলত কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র হাতে। কৈলাশের মতো বদল হয়নি; তাঁর ডেপুটিও। স্বপদে বহাল রয়েছেন; অরবিন্দ মেননও। তবে সেই দায়িত্বে শুক্রবার জোড়া হল; আরও একজনকে। অর্থাৎ, বাংলায় তৃণমূলকে কোণঠাসা করতে; এখন থেকে বিজেপি-র আইটি সেল চিফ অমিত মালব্য; বাংলায় সহকারী পর্যবেক্ষক হিসাবে কাজ করবেন।


বিহার নির্বাচনে জয় এসেছে। বিহারের ইন-চার্জ করা হল ভূপেন্দ্র যাদবকে। তিনিই গুজরাতেও দায়িত্ব সামলাবেন। অমিত শাহ ঘনিষ্ঠ মুরলীধর রাওকে; মধ্যপ্রদেশের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে। মণিপুর এবং জম্মু-কাশ্মীরের ইন-চার্জ পদে থাকা; রাম মাধবের উপরে ভরসা কমেছে দলের। ফলে এবারে আর কোনও রাজ্যের দায়িত্বে; রাখা হয়নি তাঁকে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন; বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র। ‘টিম অমিত শাহ’-এর অন্যতম সদস্য অনিল জৈনকেও; কোনও রাজ্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।


২০২১-এ অসমে নির্বাচন। তার আগে জমি শক্ত করতে; অসমের দায়িত্বে আনা হল বৈজয়ন্তী জয় পান্ডাকে। উত্তরপ্রদেশে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে; দায়িত্বে থাকা রাধা মোহনকে সাহায্য করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে; সত্য কুমার, সুনীল ওঝা এবং সঞ্জীব চৌরাশিয়াকে। রাধা মোহনকে রাজস্থানের; দলীয় কর্মকাণ্ড দেখারও দায়িত্ব দেওয়া হল।


মহারাষ্ট্রের দায়িত্বে এলেন; বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সিটি রবি। তিনিই গোয়া এবং তামিলনাড়ুর; দায়িত্বে বহাল হয়েছেন। দিল্লির ইন-চার্জ পদে থাকা তরুণ চৌগকে; জম্মু-কাশ্মীর, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ এবং তেলঙ্গানা সামলানোর দায়িত্ব দিয়েছে গেরুয়া নেতৃত্ব। ওড়িশা এবং ছত্তীসগড়ের দায়িত্ব পেয়েছেন; নব নিযুক্ত সাধারণ সম্পাদক ডি পুরন্দেশ্বর। দলের সাধারণ সম্পাদক দুশ্যন্ত গৌতমকে; পঞ্জাব, চণ্ডীগড়, উত্তরাখণ্ড এবং দিলীপ সাকিয়াকে অরুণাচল প্রদেশ এবং ঝাড়খণ্ডের দায়িত্বে বহাল করা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের ইন-চার্জ করা হয়েছে; ভি মুরলিধরণকে। তাঁকে সাহায্য করার জন্য দায়িত্ব; দেওয়া হয়েছে সুনীল দেওধরকে।


পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক হিসাবে চলতি বছরেই; ৫ বছর পূর্ণ করেছেন মধ্যপ্রদেশের বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে; সিদ্ধার্থনাথ সিংকে সরিয়ে তাঁকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছিল দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই থেকে পশ্চিমবঙ্গে দলের সঙ্গে; কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের যোগাযোগের মাধ্যম তিনি। তাঁর জমানাতেই লোকসভা নির্বাচনে; ১৮টি আসন জেতে বিজেপি। দলের অন্দরের নানা মতবিরোধের সমাধানে; তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিধানসভা নির্বাচনের আগে; তাঁকেও সরায়নি বিজেপি।


তবে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসাবে; অমিত মালব্যর অন্তর্ভুক্তি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিজেপি আইটি সেলের প্রধানের ওপর; গোটা দেশে সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের প্রচারের পুরো ভার। আর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে টক্কর দিতে; বিজেপির অন্যতম হাতিয়ার এই সোশ্যাল মিডিয়া। বিজেপিকে মাত দিতে, ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের ভার; প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আইপ্যাকের হাতে তুলে দিয়েছে তৃণমূল। পালটা প্রচারে ঝড় তুলতে তাই অমিত মালব্যকে; সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ করলেন বিজেপির থিঙ্কট্যাঙ্কের সদস্যরা।