• chanakyabangla

দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে!‌ তাই প্রায় ১০০০ চিনা পড়ুয়ার ভিসা বাতিল করল আমেরিকা।


দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে!‌ তাই প্রায় ১০০০ চিনা পড়ুয়ার ভিসা বাতিল করল আমেরিকা।

চাণক্য বাংলা ওয়েব ডেস্ক:

অভিযোগ, চীনের পিপ্‌লস লিবারেশন আর্মির সঙ্গে কোনওভাবে যোগ রয়েছে এই পড়ুয়াদের। তার জেরেই আমেরিকা থেকে গোপন তথ্য হাতানোর চেষ্টা করছে। 

২৯ মে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, চীনা পড়ুয়া এবং গবেষকদের দেশে ঢুকতে দেবেন না। এবার সেই কাজটাই করল প্রশাসন। বুধবার মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান শাদ উলফ জানিয়েছেন, পিএলএ–র সঙ্গে যোগ থাকা পড়ুয়ারা যাতে গোপন তথ্য হাতাতে না পারে, তাই এই পদক্ষেপ। 

এর আগেও আমেরিকা চীনের দিকে আঙুল তুলেছিল। অভিযোগ করেছিল, তারা গোপন তথ্য হাতাচ্ছে। শিল্পক্ষেত্রেও চরবৃত্তি করছে। পড়ুয়াদের ভিসাকে ভুলভাবে ব্যবহার করে সুযোগ নিচ্ছে। বুধবার উলফ আবারও সেই অভিযোগই তুললেন। পাশাপাশি জানিয়ে দিলেন, চীনে দাসদের তৈরি করা জিনিস আমেরিকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। প্রত্যেক মানুষকে শ্রদ্ধা করতে হবে চীনে, এই দাবিও তুললেন উলফ। এভাবে যে আসলে জিনজিয়াং প্রদেশে মুসলিমদের ওপর চীনা নিগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরলেন তিনি, তা স্পষ্ট। 

মার্কিন বিদেশ দপ্তরের এক মুখপাত্র জানালেন, হংকংয়ে গণতন্ত্রে আঘাত করেছে চীন। তার পরেই ২৯ মে ট্রাম্প প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, চীনা পড়ুয়াদের ভিসা বাতিল করবে। এবার তাই ১০০০ জনেরও বেশি পড়ুয়ার ভিসা বাতিল হল। তিনি জানালেন, ‘‌উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’‌ স্নাতক পড়ুয়া এবং গবেষকদের ভিসাই বাতিল করা হল। যাঁরা বৈধভাবে আমেরিকায় পড়তে এসেছেন, তাঁদের সমস্যা নেই।

চীন যদিও জুনেই আমেরিকার এই ঘোষণার বিরোধিতা করে। জানিয়েছিল, পড়ুয়াদের বিষয়টা আমেরিকার আরও সহনশীলভাবে বিচার করা উচিত। বর্তমানে আমেরিকায় তিন লক্ষ ৬০ হাজার চীনা পড়াশোনা করেন। তাঁদের থেকে বড় রাজস্ব পেয়ে থাকে আমেরিকার কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। 

এফ১ ভিসা রয়েছে এমন ৬০ জন চীনা পড়ুয়া উইচ্যাটে জানিয়েছে, মার্কিন প্রশাসন তাঁদের ফের ভিসার আবেদন করতে বলেছে। তাঁদের অনেকেই অঙ্ক, ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান নিয়ে পড়ছেন। অনেকে আবার স্নাতক করেছেন চীনের কোনও কলেজে। সেখানে পিএলএ–র সঙ্গে যোগ রয়েছে এমন কোনও বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। সেই কারণ দর্শিয়েই তাঁদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

৩ নভেম্বর আমেরিকায় ভোট। প্রচারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিপক্ষের জো বিডেনকে বারবার ‘‌চীন দরদী’‌ বলে কটাক্ষ করেছেন। মার্কিনিদের কাছে তাঁকে সেভাবেই প্রতিপন্ন করছেন। সে কারণেই নিজে চীনের বিরুদ্ধে আরও কড়া নীতি নিচ্ছেন বলে মত ভোট বিশেষজ্ঞদের।