• chanakyabangla

দু’‌ সপ্তাহ আগে হাথরাসে গণধর্ষণ হয়েছিল তাঁর।


দু’‌ সপ্তাহ আগে হাথরাসে গণধর্ষণ হয়েছিল তাঁর। সঙ্গে নৃশংস অত্যাচার, যা মনে পড়ায় ২০১২ সালের নির্ভয়া কাণ্ডের কথা। পরিবার উত্তরপ্রদেশ পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল। মঙ্গলবার দিল্লির হাসপাতালে মারা গেছেন নিগৃহীতা। 

ধর্ষণের অভিযোগ নিতে দেরি করলেও দাহর ক্ষেত্রে সে রকম আর করল না। পরিবারকে শেষ দেখাও দেখতে দিল না পুলিশ। মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার আবেদন কানেই তুলল না। জোর জবরদস্তি হাসপাতাল থেকে দেহ নিয়ে পুড়িয়ে দিল। পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে আটকে রাখল। এমনকী মানব বন্ধন গড়ে সাংবাদিক, স্থানীয়দেরও আটকে দিল পুলিশ। 

১৪ সেপ্টেম্বর মা, ভাইয়ের সঙ্গে হাথরাসের ক্ষেতে কাজ করতে গেছিলেন ২০ বছরের দলিত তরুণী। গলায় ওড়না বেঁধে বাজরার ক্ষেতে টেনে নিয়ে যায় চার যুবক। সকলেই উচ্চবিত্ত। সেখানে গণধর্ষণ করে। মেরে হাড় গুঁড়িয়ে দেয়। জিভ কেটে নেয়। পঙ্গু হয়ে আইসিইউ–তে শুয়ে ১৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছেন তিনি। মঙ্গলবার লড়াই শেষ হয় তাঁর। দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে মারা যান। কিন্তু পুলিশি হেনস্থা শেষ হয়নি।

হাসপাতালে বাইরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন অসংখ্য মানুষ। সেখানেই যোগ দিয়েছিলেন নিগৃহীতার বাবা ও দাদা। তাঁদের সেখান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় কালো স্করপিও গাড়িতে। নম্বর প্লেটে উত্তরপ্রদেশ লেখা ছিল। মধ্য রাতে হাসপাতাল থেকে তরুণীর দেহ ২০০ কিলোমিটার দূরে হাথরাসে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের তখনই সন্দেহ হয়, মাঝরাতেই হয়তো দেহ পুড়িয়ে ফেলতে চায় পুলিশ। তরুণীর বাবা কাকুতি, মিনতি করেছিলেন, একবার মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যেতে চান। রীতি মেনে পরের দিন সকালে শেষকৃত্য করতে চেয়েছিলেন মেয়ের। মানেনি পুলিশ। 

গ্রামের মহিলারা অ্যাম্বুল্যান্সের বনেটে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ওই অ্যাম্বুল্যান্সেই ছিল দেহ। মৃতার মা পথের মধ্যে বসে পড়েন। তাতেও কাজ হয়নি। পুলিশ এক একবার গাড়ি থামিয়েছে। গাড়ি থেকে নেমে বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে আবার গাড়ি ছুটিয়েছে শ্মশানের দিকে। জেলাশাসকের কাছেও পরিবার আবেদন করেছিল, যাতে বুধবার তরুণীর শেষকৃত্য করা হয়। কোনও কিছুতেই কাজ হয়নি। 

এর পর রাত আড়াইটায় দেহ নিয়ে শ্মশানে পৌঁছয় পুলিশ। পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য তখন বাড়িতে বন্দি। মানববন্ধন গড়ে সাংবাদিক, গ্রামবাসীদের আটকে রাখে পুলিশ। তার পর নিজেরাই শেষকৃত্য করে দেয়। মেয়েকে শেষ দেখাও দেখতে পাননি বাবা–মা, ভাইয়েরা। 

চার অভিযুক্ত এখন জেলে। খুনের মামলাও রুজু হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। যদিও প্রথমে পুলিশ অভিযোগই নিতে চায়নি। সে কথা যদিও গতকাল অস্বীকার করেন হাথরাসের পুলিশ প্রধান। প্রথমে শুধুর খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করে তারা। পরে নিগৃহীতার বয়ান রেকর্ডের পর গণধর্ষণের মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে গতকালও উত্তরপ্রদেশের এক পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, ধর্ষণের বিষয় এখনও নিশ্চিতই হয়নি। ফরেনসিক রিপোর্ট এলে বোঝা যাবে।