• chanakyabangla

পুজো এলেই আরব সাগরের পাড়ে মুম্বই নেচে ওঠে বাংলার ঢাকের তালে।


পুজোজো এলেই আরব সাগরের পাড়ে মুম্বই নেচে ওঠে বাংলার ঢাকের তালে। বাঙালি, অবাঙালি সবাই কোমর দোলান ঢাকের তালে তালে। আর এই ঢাকির দল বাংলার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বাঁশচাতোর গ্রামের। কিন্তু করোনার আবহে বেলডাঙার ঢাক কি আদৌও বাজবে আরব সাগরের পাড়ে? পেটের দায়ে, সংসার বাঁচাতে বাংলার বিখ্যাত ঢাক বাদক লালু দাস আর তার সঙ্গীদের ভ্যান চালাতে হচ্ছে। 

বছরের পর বছর ধরে মুম্বইতে পুজোয় ঢাক বাজাতে যান তঁারা। পাড়ার পুজো নয়, সঙ্গীতশিল্পী বাপী লাহিড়ী, গায়ক অভিজিতের বাড়ির পুজো এদের বাঁধা। পুজোর ৩/৪ মাস আগেই মুম্বই থেকে ফোন চলে আসে। হাওড়া থেকে যাবার টিকিট চলে আসে। ষষ্ঠীর দু–তিন দিন আগেই গায়ক অভিজিতের বাড়ি পৌঁছে যান লালু দলবল নিয়ে। মন খারাপ নিয়ে লালু বলছিলেন, ‘‌দাদার (অভিজিৎ) বাড়ি পৌঁছে যাবার পর আর কোনও চিন্তা নেই। থাকা খাওয়ার এলাহি আয়োজন। ষষ্ঠীর সন্ধে থেকেই শুরু হয় ঢাক বাজানো। বিখ্যাত মানুষেরা এসে কেউ ঢাক বাজাচ্ছেন। কেউ বা দলবেঁধে ঢাকের তালে নাচছেন।’‌ কিন্তু এবার? ‘‌করোনা নামের অসুর সব শেষ করে দিয়েছে। আর একমাসও নেই পুজোর। কিন্তু মুম্বই থেকে ফোন আসেনি।’‌ লালুরা জানেন না, ওখানে পুজো হবে কী না। তিনি বলেন, ‘‌বাড়ি ফেরার সময় আমাদের সবাইকে মোটা টাকা দিতেন দাদা। যা আমরা সারা বছরে এখানে ঢাক বাজিয়ে পেতাম না।’‌ মুম্বই থেকে ফোন যেমন আসেনি, তেমনি কোনও ডাক আসেনি অন্য কোথাও থেকে। তাই সংসার চালাতে তঁাদের ভ্যান চালাতে হচ্ছে। লালুর সঙ্গে ৭/৮ জনের দল থাকে। কারোর আয় নেই। লালুর সঙ্গে গলা মিলিয়ে সঞ্জয় দাস, বিশ্বনাথ দাসরা বলেন, ‘‌কী করব সংসার তো চালাতে হবে। নিজেদের জমিও নেই। ঢাকের ওপর ভরসা। বাধ্য হয়ে ভ্যান চালাতে হচ্ছে।’‌ ঢাক বাদক লালু আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, লন্ডন গেছেন ঢাক নিয়ে। লালুর ঢাক বাজানো শুনেছেন প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধীও। একসঙ্গে পাঁচটি ঢাক বাজাতে পারেন লালু। সাধের সেই ঢাক ঘরের কোণে রাখা। প্রতিদিন ঝাড়পোঁছ করেন, যাতে ঢাকে ময়লা না জমে। কিন্তু লালুদের প্রশ্ন, এবার কী ঢাকে কাঠি দিতে পারব, বাংলার বোল কী তুলতে পারব ঢাকের তালে? ‌‌