• chanakyabangla

‌প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বললেন, ‘‌মার্কশিট’‌ পড়ুয়ার সার্বিক মান নির্ণয় করে না


‌ চাণক্য বাংলা ওয়েব ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বললেন, ‘‌মার্কশিট’‌ পড়ুয়ার সার্বিক মান নির্ণয় করে না, বরং তার পরিবারের ‘প্রেস্টিজ শিট’ হিসেবে কাজ করে। তাঁর মন্তব্য ‘‌মার্কশিট কখনওই কোনও ছাত্রের শিক্ষার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন হতে পারে না। মার্কশিট আদতে শিক্ষার বোঝা হয়ে ‌দাঁড়ায়। নতুন শিক্ষানীতিতে মার্কশিট–‌‌সর্বস্ব এই শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।’‌ শিক্ষাকে শ্রেণিকক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেছেন মোদি।

শুক্রবার স্কুল শিক্ষা কনক্লেভে নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি বিষয়ে ভার্চুয়াল ভাষণ দিচ্ছিলেন মোদি। সেখানে তিনি বলেন, ‘‌কোনও পরীক্ষায় কে কত নম্বর পেল, তা দিয়ে কি সত্যিই একজন পড়ুয়ার মান নির্ণয় করা সম্ভব? উত্তর নিয়ে সংশয় রয়েছে।’‌ প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন এক ভারতের ছবি প্রতিফলিত হবে নয়া শিক্ষানীতির আয়নায়। এতে স্কুলব্যাগ আর নম্বরের বোঝা পেরিয়ে আসল শিক্ষায় সমৃদ্ধ হবে জীবন। শুধুই কঠিন জিনিস মুখস্থ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। কারণ একুশ শতক শিক্ষার, জ্ঞানের, অভিনবত্বের।‌ তাঁর বক্তব্য, কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন শিক্ষানীতি আরও বিজ্ঞানসম্মত ও গাণিতিকভাবে পড়াশোনার ব্যবস্থা করবে। শিক্ষকদের মানও বাড়বে। যে কোনও বিষয়কে শুধু  পড়ে পরীক্ষায় লেখা নয়, বিষয়গুলি আরও গভীর ও ব্যাপ্তভাবে শিখবে পড়ুয়ারা। 

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই নতুন শিক্ষানীতিতে আরও অনেক বেশি সুযোগ থাকবে পড়ুয়াদের প্রশ্ন করার, তাদের মনে অনুসন্ধিৎসা জাগিয়ে তোলার। সে যা বইয়ে পড়ে শিখছে, সেটা বাস্তবে প্রয়োগ করতেও শিখবে হাতে–‌কলমে। তবেই তাদের উৎসাহ বাড়বে। সিলেবাসের বোঝা কমিয়ে শেখার আনন্দ বাড়ানো হবে। তিনি জানান, সারা দেশের শিক্ষকদের থেকে মোট ১৫ লক্ষ মতামত নিয়ে এই নীতি তৈরি করা হয়েছে। বিরোধীরা যতই আপত্তি তুলুন, ২০২০ শিক্ষাবর্ষ থেকেই যে দেশে নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি চালু করবে কেন্দ্রীয় সরকার, তা জোর গলায় জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

তৃণমূল–‌‌সহ বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে বহু খামতি রয়েছে। রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা না–করেই জোর করে শিক্ষানীতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এতে দেশের গণতান্ত্রিক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে। কংগ্রেস–‌‌সহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল শিক্ষায় গৈরিকীকরণের অভিযোগে সরব হয়েছে। দক্ষিণের রাজ্যগুলো শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে। বাংলার শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ও প্রধানমন্ত্রী মোদির উপস্থিতিতে এই বিষয়ক ভার্চুয়াল বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলা এখনই এই শিক্ষানীতি চালু করবে না। নয়া নীতি চালু করতে হলে আরও বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন। তারপরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।