• chanakyabangla

বুঝেই পাল্টা আগামীকাল সভা তৃণমূলের, শুভেন্দু না মমতা? বিভাজন আড়াআড়ি।


সব বুঝেই পাল্টা আগামীকাল সভা তৃণমূলের, শুভেন্দু না মমতা? বিভাজন আড়াআড়ি

চানক্য বাংলা ওয়েব ডেস্ক:


আর কোনো রাখঢাক নয়। পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের মধ্যে আড়াআড়ি বিভাজনটা পুরোপুরি হয়েই গেল। যে জেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস ২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এসেছে রাজ্যে, সেই জেলাতেই বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠেছে। তারই ফলশ্রুতি সাম্প্রতিককালের ঘটনাবলী।


কাল যখন নন্দীগ্রামের গোকুলনগরে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ডাকে ‘রক্তাক্ত সূর্যোদয়’ এর বর্ষপূর্তি দিবস উপলক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, ঠিক তখনই নন্দীগ্রামে পাল্টা সভা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর সকলেই জানেন গোকুলনগরের সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী তথা নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রধান কান্ডারী শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই একই দিনে নন্দীগ্রামে আলাদা সভা করে তৃণমূল বুঝিয়ে দিচ্ছে সেই গোষ্ঠী শুভেন্দুর সঙ্গে আর নেই।


রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, আমরা কাল নন্দীগ্রামে পাল্টা সভা করব। শুভেন্দুর ব্যাপারটা জানি না,বিষয়টা দল দেখছে। আজ পর্যন্ত নন্দীগ্রামে কখনো এমন ঘটেনি। বরাবরই সেখানে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ডাকে সভা হতো। সেখানে থাকতেন শুভেন্দু সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাই এই পাল্টা সভার মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে গেল যে তৃণমূল দল পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এখনই ভেঙে দু টুকরো হয়ে গিয়েছে।


যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা সভা করছে সেখানে ইতিমধ্যেই দলনেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের যুব সভাপতি সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দিয়ে প্রচুর ব্যানার, পোস্টার টাঙানো হয়েছে। কিন্তু শুভেন্দু তো এখনও তৃণমূলেই আছেন, সেখানে পাল্টা সভা করার তাহলে যৌক্তিকতা কোথায়? এ প্রশ্নের কোনো উত্তর মেলেনি রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে। এদিকে কয়েকদিন ধরেই গোকুলনগরে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির ডাকে যে সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে তার প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে।


সভার উদ্যোক্তারা বলেছেন শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের কাছে শেষ কথা। শুভেন্দুর বাইরে কাউকে তাঁরা চেনেন না বা জানেন না। যদিও স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারী পুরো বিষয়টি নিয়ে নিশ্চুপ রয়েছেন। কিন্তু তিনি তাঁর নিজের মতো করে একের পর এক কর্মসূচি পালন করে চলেছেন দলীয় পতাকা ছাড়া। তাই কাল নন্দীগ্রামের জোড়া সভায় শুভেন্দু এবং তৃণমূল নেতৃত্ব কী বক্তব্য রাখেন সে দিকেই চোখ থাকবে রাজনৈতিক মহলের।