• chanakyabangla

বাবরি ধ্বংস মামলার নিষ্পত্তি : উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস ৩২ অভিযুক্ত


বাবরি ধ্বংস মামলার নিষ্পত্তি : উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস ৩২ অভিযুক্ত


চানক্য বাংলা ওয়েব ডেস্ক:

প্রায় তিন দশক ধরে চলা বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায় বের হল আজ, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর। অভিযুক্তদের কারোর বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ না থাকার কারণে তাঁদের ‘বেকসুর খালাস’ করল লখনউয়ের বিশেষ সিবিআই আদালত। রায়ে এও বলা হয়েছে, মসজিদ ভাঙায় অভিযুক্তদের কারও কোনও হাত ছিল না। উন্মত্ত জনতাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। বরং অভিযুক্তরা মসজিদ ভাঙায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় অভিযুক্ত মোট ৪৯ জনের মধ্যে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অশোক সিঙ্ঘল, শিবসেনার বাল ঠাকরে, অযোধ্যার পরমহংস রামচন্দ্র দাস সহ ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৩২ জনের হয়ে এদিন প্রতিনিধিত্ব করেছেন আইনজীবী কেকে মিশ্র। রায় ঘোষণার সময় সকল অভিযুক্তকে সশরীরে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এদিন বেলা সওয়া ১১টা নাগাদ ২৬ জন অভিযুক্ত আদলতে পৌঁছন। বাকিদের মধ্যে লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলী মনোহর যোশী, উমা ভারতী, কল্যাণ সিং, সতীশ প্রধান এবং রামমন্দির ট্রাস্টের প্রধান নৃত্যগোপাল দাস আদালতে হাজিরা দেওয়া থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নোভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে উমা ভারতী হৃষিকেশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি। তাই তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতের হাজির থাকার আর্জি জানিয়েছিলেন। অতিমারীর মধ্যে বার্ধক্যজনিত কারণে লালকৃষ্ণ আডবাণী এবং মুরলি মনোহর জোশী আদালতে যাবেন না বলে জানিয়েছিলেন। বদলে আদালত ব্যবস্থা করলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার কথা বলেছিলেন তাঁরা। বাবরি মসজিদ ধ্বংসকালীন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর পদে ছিলেন কল্যাণ সিং। তিনিও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেই আদালতে হাজিরা দিতে চান। এদিন হাজির ছিলেন না রামমন্দির ট্রাস্টের প্রধান নৃত্যগোপাল দাসও। তবে অন্যদিকে, বিনয় কাটিয়ার, সাধ্বী ঋতাম্ভরা, সাক্ষী মহারাজের মত ব্যক্তিত্বরা রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আঁটোসাঁটো নিরাপত্তার মধ্যে শুরু হয় রায়দান। অভিযুক্তরা এবং তাঁদের আইনজীবী, সিবিআইয়ের আইনজীবীরা ছাড়া কাউকে আদালতে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। আদালতে ঢোকার জন্য একটিমাত্র প্রবেশদ্বারই খোলা রাখা হয়েছিল।

এদিন বিচার দিতে গিয়ে বিচারক সুরেন্দ্রকুমার যাদব জানান, অভিযুক্তদের কারও বিরুদ্ধে উপযুক্ত কোনও প্রমাণ মেলেনি। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত নয়। একইসঙ্গে তিনি জানান, মসজিদ ভাঙায় অভিযুক্তদের কারও কোনও ষড়যন্ত্র ছিল না। উন্মত্ত জনতার রোষেই বিতর্কিত নির্মাণ ভেঙে পড়েছে। এর নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক নেতার উস্কানি কাজ করেনি। অভিযুক্তরা বরং মসজিদ ভাঙায় বাধা দিতে গিয়েছিলেন। অভিযুক্তদের ফাঁসানোর জন্য প্রমাণ বিকৃত করা হয়েছিল বলেও এদিন মন্তব্য করেন বিচারক। ফলে উপযুক্ত প্রমানের অভাবে বাবরি ধ্বংস মামলায় ৩২ জন জীবিত অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস করল লখনউয়ের বিশেষ সিবিআই আদালত। তবে সিবিআই আদালতের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড।