• chanakyabangla

বিরসা মুন্ডা নয়, অমিতের মালা শিকারের মূর্তিতে


চানক্য বাংলা ওয়েব ডেস্ক:বৃহস্পতিবার একদিনের বাঁকুড়া জেলা সফরে এসে বিজেপি–র কেন্দ্রীয় নেতা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পোয়াবাগান মোড়ে যে মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, সেটি আদৌ বীরসা মুন্ডার মূর্তি নয়। ফলে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে জেলার আদিবাসী সমাজে। শুক্রবার তাঁরা দলে দলে আসেন পোয়াবাগান মোড়ে এবং দুধ ও গঙ্গাজল দিয়ে মূর্তি ও এলাকাটিকে শোধন করেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন জেলা তৃণমূলের নেতারা।

জেলা তৃণমূল সভাপতি শ্যামল সাঁতরা বলেন, ‘‌ওই মূর্তিটি আদৌ বীরসা মুন্ডার নয়। যেহেতু পোয়াবাগানেই জেলার জঙ্গলমহল শুরু হচ্ছে, তাই ওই মোড়ে এক আদিবাসী শিকারি যুবকের মূর্তি বসানো হয়েছে। মূর্তিটির আশপাশে আছে হরিণ এবং অন্যান্য জীবজন্তুর মূর্তি এবং বেশ কিছু পাখি। বীরসা মুন্ডা আদিবাসী সমাজের ভগবান। তাঁর মূর্তি কখনও এইভাবে বসানো হয় না। আসলে বিজেপি নেতাদের আদিবাসী কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে কোনও জ্ঞান নেই। তাই এমন জঘন্য কাজটি তাঁরা করতে পেরেছেন। এতে আদিবাসী সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। তাঁরা সরাসরি অভিযোগ করেছেন, তাঁদের ভগবানকে অপমান করা হয়েছে। তাই তাঁরাই মূর্তি এবং এলাকাটিকে এদিন দুধ এবং গঙ্গাজল দিয়ে শোধন করেছেন। তৃণমূল কর্মীরা তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। আদিবাসীরা বলছেন, রক্তস্নাত হাত দিয়ে ওই মূর্তির গলায় মালা দেওয়া হয়েছে। ফলে মূর্তিটি অপবিত্র হয়েছে। তাই তাঁরা শোধন করলেন।’‌

শ্যামলবাবু অভিযোগ করেন, ‘‌শুধুমাত্র ভোটের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তাঁর দল বিজেপি–র জেলা নেতারা এই কাজটি করেছেন।

প্রকৃতপক্ষে আদিবাসীদের সঙ্গে এই দলের জেলা নেতাদের কোনও সম্পর্কই নেই।’‌ এদিন মূর্তিটি শোধনের সময় এলাকার বহু মানুষ সেখানো জড়ো হন। তাঁরাও বিজেপি নেতাদের অনুষ্ঠানের সমালোচনা করেন। শ্যামলবাবু জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার যে আদিবাসী পরিবারটিতে মধ্যাহ্নভোজন করেছিলেন, তাঁরা সেই পরিবারের কর্তা বিভীষণ হাঁসদার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিভীষণবাবু তাঁদের জানিয়েছেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দল করেন না। বিজেপি তো নয়ই। তিনি বলেছেন, তাঁকে অনুরোধ করায় তিনি রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর বাড়িতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যাহ্নভোজন করতে এলেও তাঁর সঙ্গে তেমন করে কোনও কথাবার্তা বলেননি। তাঁদের গ্রামে পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট আছে। সেই কথাটুকুও তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলার সুযোগ পাননি। শ্যামলবাবুর অভিযোগ, ‘‌ওই আদিবাসী পরিবারে মধ্যাহ্নভোজনের অনুষ্ঠানও লোকদেখানোর জন্য এবং শুধুমাত্র ভোটের দিকে লক্ষ্য রেখে। এইভাবে আদিবাসীদের একটি ভোটও বিজেপি সংগ্রহ করতে পারবে না।’‌