• chanakyabangla

মুসলিমদের জন্য নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করার ঘোষণা দিলেন, ভাইজান


মুসলিমদের জন্য নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করার ঘোষণা দিলেন, ভাইজান

চানক্য বাংলা ওয়েব ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচন যতই এগোচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধি দের সংখ্যা ততোই বাড়ছে, এবার কোন রাজনৈতিক দল নয় মুসলিম নেতা ভাইজান সরাসরি মুসলিমদের জন্য নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করার ঘোষণা দিলেন। এ নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে সৃষ্টি হয়েছে চাপা উত্তেজনা।

কে এই মুসলিম নেতা যিনি মুসলিমদের জন্য নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করতে চাচ্ছেন? তিনি হলেন পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী, তিনি ভাঙ্গড় থেকে আজ ঘোষণা করেন তার নতুন দল ডিসেম্বরে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।

এর আগে রাজনৈতিক নেতাদের ফুরফুরা শরীফের দেখা গেলেও আব্বাস সিদ্দিকী সরাসরি রাজনৈতিক দল তৈরির ঘোষণা দিলেন, এ নিয়ে অনেক রাজনৈতিক দলের কপালে ভাঁজ এর চিহ্ন দেখা গেছে, মূলত উত্তর এবং দক্ষিণ 24 পরগনা, হাওড়া, হুগলি, সহ রাজ্যের বিভিন্ন মুসলিম এরিয়ায় তার দল প্রার্থী দেবে বলে তুই করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ভাঙ্গড় এবং ক্যানিংয়ে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হল তার দল ওই সমস্ত এলাকায় জয়লাভ করবেন এবং দক্ষিণ 24 পরগনায় টিএমসি কে একটি আসন পেতে দেবেন না তিনি।এবং তিনি আরও বলেন তার দল ক্ষমতায় এলে আদিবাসী কে করা হবে মুখ্যমন্ত্রী এবং মুসলিম কে করা হবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এখানেই তাঁর রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে। কেননা দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় তৎকালীন মুসলিম নেতারা বলেছিলেন বাংলাদেশ হবে মুসলিম এবং আদিবাসী দলিতদের জন্য, এবং সে কথা মতোই অনেক আদিবাসী হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দান করে, কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, পাকিস্তানের প্রথম হিন্দু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশ ভাগ হওয়ার এক বছরের মধ্যেই আবার ভারতবর্ষে ফিরে আসেন, কেননা তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তাকে কোনরকম মর্যাদা দিচ্ছিলেন না। সে ক্ষেত্রে আব্বাস সিদ্দিকী আদিবাসী এবং দলিতদের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে এ নিয়ে হাজারো প্রশ্ন চিহ্ন রয়ে গেল। তাছাড়া রাজ্যে বিজেপির উত্থান হয়েছে তার ধর্মীয় মেরুকরণ এর কথা মাথায় রেখে, এক্ষেত্রে বলতে হবে বাংলার হিন্দু সমাজ নিজেদের হিন্দু বলতেই পছন্দ করেন, ইউপি বিহারের মত হিন্দু সমাজ বিভিন্ন ভাবে বিভক্ত না। গত লোকসভা নির্বাচনে রাজবংশী আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা তে এবং বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুদের এলাকাতে বিজেপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন, সে ক্ষেত্রে শুধু মুসলিম ভোট ব্যাংকের উপর নির্ভর করে আব্বাস সিদ্দিকী কতটুকু সাফল্য পাবে তা নিয়ে হাজারো প্রশ্ন চিহ্ন রয়ে গেল। আর এর প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে বিজেপির ভোটব্যাংকে, এতে অনেকেই মনে করছেন আব্বাস সিদ্দিকী মুসলিমদের জন্য নতুন করে রাজনৈতিক দল তৈরি করলে মুসলিম ভোটব্যাংকে ভাগ বসাবে ঠিকই, কিন্তু এতে সবথেকে বেশি লাভবান হবে বিজেপি, হিন্দুরা ভয় পেয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোট দিতে পারে বিজেপিকে।