• chanakyabangla

মাস্ক কে মুক্তির দিশা খুঁজছে পটের গ্রাম


মাস্কে এ মুক্তির দিশা খুঁজছে পটের গ্রাম।

চানক্য বাংলা ওয়েব ডেস্ক:

করোনা থেকে বাঁচতে মাস্কের কদর এখন সর্বত্র। করোনার দৌলতেই সেই জীর্ণ ও নির্জীব মাস্ক–‌ই প্রতীক হয়ে উঠেছে শিল্পের। শিল্পের ছোঁয়া পাচ্ছে মাস্ক। আর এই শৈল্পিক মাস্কেই মুক্তি খুঁজছেন পূর্ব মেদিনীপুরের ‘‌পটের গ্রাম’‌ চণ্ডীপুর, হবিচক, নানকারচকের পটশিল্পীরা। করোনা পরিস্থিতির জেরে রুজিরুটি হারিয়ে মাথায় হাত পড়েছিল তাঁদের। এখন সেই করোনাকেই হাতিয়ার করে টিকিয়ে রাখতে চাইছেন শিল্পের বাজারকে। 

পটচিত্র দিয়ে তৈরি হচ্ছে সুদৃশ্য মাস্ক। সাদামাটা মাস্কের বদলে এমন নানা ডিজাইনের মাস্ক দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠছে অনেকের কাছেই। দাম নাগালের মধ্যে থাকায় বিকোচ্ছেও দেদার। পটুয়াদের হাতের তৈরি লৌকিক ঘরানার মাস্ক ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে। যা ব্যবহারের পাশাপাশি সাজিয়েও রাখা যাবে বাড়িতে। 

সম্পূর্ণ কাপড়ের তৈরি মাস্কে পটু হাতে দেবদেবীর চিত্রের পাশাপাশি, পটের বিবি–‌সাহেব–‌গোলাম ফুটিয়ে তুলছেন আবেদ চিত্রকর, সায়েরা চিত্রকর, রিজিয়া চিত্রকর, আলেকজান্ডার পটিদাররা। পরিকল্পনায় রয়েছেন স্থানীয় শ্যামসুন্দরপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অরুণাংশু প্রধান। তিনি বলেন, ‘‌বর্তমান সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে চিরাচরিত পটশিল্পকে আঁকড়ে টিকে থাকা খুবই কষ্টকর। পরিস্থিতির বাধ্য–‌বাধকতায় পরিস্থিতিকেই ব্যবহার করা উচিত। আমরা মাস্ক বিক্রির জন্য সহায়তা নিয়েছি ফেসবুকের। এর মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গা থেকে ভালই সাড়া মিলছে। 

অর্ডার মতো নতুন নতুন ডিজাইনের মাস্ক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ক্রেতাদের কাছে।’‌ অরুণাংশুবাবুর এমন অভিনব ভাবনায় রোজগারের দিশা খুঁজে পেয়ে খুশি পটশিল্পী রিজিয়া, সায়েরারা। তাঁরা বলছেন, ‘‌অতিমারীর এই চরম সঙ্কটের মুখে মাস্টারমশাইয়ের ভাবনা শুধু আমাদের আয়ের দিশাই দেখায়নি। পাশাপাশি আমরা ফিরে যেতে পেরেছি আমাদের কাজের জগতে, পেশার জগতে।’‌