• chanakyabangla

রঙমেশানো জলকামান ব্যবহারের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে


বন্ধ নবান্নে বিজেপির অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার, মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা, ইঁটবৃষ্টি, অধিকাংশের মুখে নেই মাস্ক, শিকেয় করোনাবিধি!


রঙমেশানো জলকামান ব্যবহারের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

চানক্য বাংলা ওয়েব ডেস্ক:

বৃহস্পতিবার দুপুরে একাধিক দাবিতে বিজেপির যুব মোর্চার নবান্ন অভিযান ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্র চেহারা নিল কলকাতা ও হাওড়া চত্ত্বর। স্তব্ধ হয়ে ওঠে মধ্য কলকাতার জনপথ। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় রাখা সত্ত্বেও একের পর এক ব্যারিকেড ভাঙে বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইঁট, ডিম, টমাটো এমনকি বোমা ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। পালটা লাঠিচার্জ করে পুলিশও। ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাসের শেল। বিজেপি কর্মীদের আটকাতে কেমিক্যাল রঙ মেশানো জলকামান দাগা হয় বলে বিজেপির তরফে অভিযোগ। অন্য দিকে, হাওড়ায় মিছিলে এক বিজেপির সমর্থকের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। মিছিলে অধিকাংশ কর্মীর, নেতার মুখে ছিল না মাস্ক। কেন্দ্রীয় শাসক শিবির হয়েও, শিকেয় করোনা বিধি!

বুধবার মধ্যরাতে বিজেপি যুব মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি তেজস্বী সূর্য দমদম বিমানবন্দরে নামার পর থেকেই আজকের পরিস্থিতি কী হতে পারে আন্দাজ করা গেছিল। জীবাণুনাশের কাজের জন্য এদিন নবান্ন বন্ধ থাকলেও, বিজেপির অভিযান কর্মসূচি নিয়ে অনড় থাকে। বাজেপির তরফে আগাম চিঠিও পাঠানো হয় সরকারকে। অভিযান ঘিরে কিছু না কিছু ঘটনা ঘটার ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল রাজ্য বিজেপি নেতাদের বক্তব্যে।

এদিন সকাল ১১ টায় চার প্রান্ত থেকে মিছিল শুরু হয় নবান্নের উদ্দেশ্যে। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশি বাধার মুখে পড়ে মিছিল। লাঠিচার্জ করে পুলিশ, ছোঁড়া হয় জলকামান। তার আগে বেলা ১০টা ৪৫ নাগাদ কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কাছে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে আটক হ‌ন বিজেপির তিন মহিলা কর্মী। সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর নেতৃত্বে ধূলাগড় থেকে একটি মিছিল বের হয়। ডানকুনি থেকে মিছিলের নেতৃত্বে দেন রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি করর্মীরা ডানকুনিতে জাতীয় সড়ক অবরোধ করতে বসলে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। বিজেপির রাজ্য দফতর থেকে মিছিলের নেতৃত্ব দেন দিলীপ ঘোষ ও অরবিন্দ মেনন।

হেস্টিংস থেকে মিছিলে নেতৃত্ব দেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায়, লকেট চট্টোপাধ্যায়, অর্জুন সিং। কোনওরকম বিশৃঙ্খলা রুখতে আগেভাগেই হেস্টিংস মোড়ে দ্বিতীয় সেতুতে ওঠার মুখেই ব্যারিকেড দিয়ে রাখে পুলিশ। হেস্টিংসে ব্যারিকেড টপকে এগোনোর চেষ্টা করে বিজেপির সমর্থকরা। পুলিশ বারবার মাইকিং করে সতর্ক করলেও, উত্তেজিত কর্মী সমর্থরা এগিয়ে আসতে শুরু করে। পুলিশ আটকানোর চেষ্টা করলে বেধে যায় খণ্ডযুদ্ধ। নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামানের ব্যবহার করে পুলিশ। এরপরই বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের নেতৃত্বে রাস্তায় বসে অবস্থান শুরু করে যুবমোর্চার কর্মীরা।

অন্যদিকে, হাওড়া ময়দান এবং সাঁতরাগাছি এলাকাতেও রাস্তা বন্ধ রেখে কড়া নজরদারি রেখেছিল পুলিশ। এই দুই জায়গায় বিজেপির মিছিলকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমারকাণ্ড বাধে। সাঁতরাগাছি ব্রিজের কিছুটা দূরে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়ন্তন বসুদের মিছিল। সেখানে জলকামান ও কেমিক্যাল স্প্রে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। সেই রাসায়নিকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়। শুরু হয় রক্তবমি। পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হতে থাকায় তাঁকে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বিজেপি নেতা তাপস ঘোষও। আহত হয়েছেন অরবিন্দ মেনন, সায়ন্তন বসু ও জ্যোতির্ময় মাহাতো। হাওড়ার মিছিল থেকে এক বিজেপি সমর্থকের কাছ থেকে পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ। ধৃতের নাম বলবিন্দর সিংহ। তিনি অর্জুন সিংয়ের ঘনিষ্ট বলে পুলিশ সূত্রের খবর।

অন্যদিকে, দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে একটি মিছিল হাওড়া ব্রিজে উঠতেই বাধা দেয় পুলিশ। তা সত্বেও মিছিল এগোতে শুরু করলে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, তাঁর উপরও লাঠিচার্জ করা হয়। পড়ে যান তিনি। জখম হন বেশ কয়েকজন কর্মী। ইতিমধ্যেই তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি হাওড়া ময়দানে পুলিশের কিয়স্ক ভাঙচুর চালানো হয়। মিছিল থেকে বোমাবাজিও করা হয় বলে অভিযোগ। ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় সেখানেও। খিদিরপুরে বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। লকেট চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিজেপি নেতা রাকেশ সিংয়ের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। শতাধিক বিজেপি কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

এদিন শিল্প, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা-সহ একাধিক দাবিতে নবান্ন অভিযান কর্মসূচি নেওয়া হয় বিজেপির যুব মোর্চার তরফে। তবে জীবাণুনাশের কাজের জন্য পরপর দু’দিন নবান্ন বন্ধ রাখার ঘোষণা করে রাজ্য সরকার। আজকের কর্মসূচি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত করতে পুরো রাজ্য সরকারের স্যানিটাইজেশন দরকার। আসলে রাজ্য সরকার ঘাবড়ে গিয়েছে। বেহালা, ভবানীপুর, ডানকুনিতে বিজেপি কর্মীদের আটকেছে পুলিশ। লাঠিচার্জ করছে। তৃণমূল কার্যকর্তাদের মতো কাজ করছে পুলিশ। তৃণমূল সরকার ঘাবড়ে গিয়েছে। গণতন্ত্র বাঁচাও, বাংলা বাঁচাওয়ের দাবিতে এই আন্দোলন চলবে।’ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মুকুল রায় বলেন, ‘বিজেপির গাড়ি বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ আটকাচ্ছে। প্রশাসন নির্ভর হয়ে পড়েছে এই সরকার।’ তৃণমূল সরকারের প্রশাসনকে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘বিজেপিকে আটকাতে লকডাউন। বিজেপির ভয়ে কলকাতাকে গোটা দেশের থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ বিজেপির সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। বিজেপির মিছিল নিয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘বিজেপি কোনও রাজনৈতিক দল নয়। ওরা সন্ত্রাসবাদী।’