• chanakyabangla

রবিবার রাজ্যসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হয়ে যায় জোড়া কৃষি বিল। বিক্ষোভ দেখালেন বিরোধী দলের সাংসদরা

চানক্য বাংলা ওয়েব ডেস্ক:

রবিবার রাজ্যসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হয়ে যায় জোড়া কৃষি বিল। সেই নিয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন সহ বিরোধী সাংসদরা। ওয়েলে নেমে ডেপুটি চেয়ারম্যানের মাইক কেড়ে নিতে যান। রুল বুক ছিঁড়ে ফেলতে যান। সোমবার ডেরেক, দোলা সেন সহ আট জন বিরোধী সাংসদকে রাজ্যসভা থেকে সাসপেন্ড করা হয়। 

সেই নিয়ে এদিন ফের সরগরম রাজ্যসভা। সাসপেন্ড হওয়া সাংসদরা কক্ষ ছাড়তে অস্বীকার করেন। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নাইডুর নির্দেশ উপেক্ষা করেন। নাইডুও অনড়। জানিয়ে দেন, সাসপেন্ড হওয়া সাংসদরা কক্ষ ত্যাগ না করলে অধিবেশন চালানো হবে না। এই বিবাদের জেরে পাঁচ বার মুলতুবি হয় অধিবেশন। সাসপেন্ড হওয়া সাংসদরা পার্লামেন্টের মাঠে বসেই প্রতিবাদ চালিয়ে যান। হাতে প্ল্যাকার্ড— ‘‌আমরা কৃষকদের জন্য লড়ব’‌, ‘‌সংসদের হত্যা’‌। 

এদিন সাসপেন্ড হয়েছেন তৃণমূলের ডেরেক, দোলা সেন, কংগ্রেসের রিপুন বোরা, রাজীব শতাভ, সৈয়দ নাজির হুসেন, আপ–এর সঞ্জয় সিং, সিপিএম–এর কে কে রাগেশ, ইলামারান করিম। চেয়ারম্যান নাইডু জানিয়েছেন, বাদল অধিবেশনের বাকি দিনগুলো তাঁরা রাজ্যসভায় থাকতে পারবেন না। পাশাপাশি, রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিংয়ের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবটিও খারিজ হয়ে গিয়েছে। 

রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়ার অভিযোগ, ডেপুটি চেয়ারম্যানকে শারীরিক নিগ্রহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‌এই ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। সামাজিক দূরত্ব, কোভিড বিধি মানা হয়নি। যা ঘটেছে, যুক্তির বাইরে। রাজ্যসভার পক্ষে খারাপ দিন। ডেপুটি চেয়ারম্যানকে মারার চেষ্টা করা হয়েছে। ওঁর শারীরিক সুস্থতা নিয়ে চিন্তিত।’‌ তিনি সংসদে হট্টগোল করা সদস্যদের আত্মসমীক্ষার পরামর্শ দেন। 

সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী আট সাংসদকে সাসপেন্ড করার জন্য প্রস্তাব পড়েন। নাইডু তাতে সম্মতি জানিয়ে ভোটের নির্দেশ দেন। ধ্বনি ভোটে আট সাংসদের সাসপেনশন পাশ হয়ে যায়। এতে বিরোধীরা ওয়েলে নেমে সোরগোল শুরু করেন। চেয়ারম্যান জানান, ডেরেকরা কক্ষ ছাড়লে বিরোধী নেতা গুলাম নবি আজাদ নিজের বক্তব্য রাখার সুযোগ পাবেন। সাসপেন্ড হওয়া সাংসদরা তা কানে তোলেননি। তার পরই মুলতুবি হয় অধিবেশন। 

ওই শাস্তির প্রেক্ষিতে তৃণমূলের রাজ্যসভার মুখ্য সচেতক সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, ‘রাজ্যসভা পরিচালনার ১২৫ নম্বর ধারায় স্পষ্ট বলা রয়েছে, কোনও সদস্য কোনও বিল নিয়ে আপত্তি তুললে সেটিকে সিলেক্ট কমিটিতে পাঠাতে হবে। যদি না সেটি আগেই সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো হয়ে থাকে। রবিবার রাজ্যসভায় যা হয়েছে, তাতে এই ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে। ভোট না নিয়ে ধ্বনিভোটে বিলটি পাশ করিয়ে সেটিকে আইনে পরিণত করা হয়েছে। গণতন্ত্রের মন্দির সংসদে যা হয়েছে, তা গোটা দেশের নিন্দনীয়। রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান শাসকদলের মর্জি মতো কাজ করেছেন। তিনি কোনও আইনেরই তোয়াক্কা করেননি। তাঁর আচরণ নজিরবিহীন এবং বেআইনি। যে ভাবে আট সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, তা ভবিষ্যতে তাঁদের কণ্ঠরোধ করার প্রয়াস। এই যদি আমাদের দেশের সংসদীয় গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি হয়, তা হলে এই দেশ নিশ্চিত ভাবে সংখ্যাধিক্যতার শিকার হতে চলেছে।’

আট সাংসদের সাপেনশন নিয়ে সরব তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ সৌগত রায়ও।