• chanakyabangla

রাজ্য জুড়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ফাইনাল সেমেস্টার এবং চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে কাল।


রাজ্য জুড়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ফাইনাল সেমেস্টার এবং চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে কাল, বৃহস্পতিবার থেকে। পরীক্ষার দিনগুলিতে কোনওরকম বিদ্যুৎবিভ্রাট যাতে না ঘটে সে–ব্যাপারে সিইএসসি এবং রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বললেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি। মঙ্গলবার এ নিয়ে টুইট করেন তিনি। এদিকে, ২ ঘণ্টার পরীক্ষার পর ছাত্রছাত্রীরা যাতে পরবর্তী আধঘণ্টার মধ্যে উত্তরপত্র জমা দিতে পারে তার জন্য নিজেদের মতো করে ব্যবস্থা নিয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন কলেজ। কেউ আলাদা পোর্টাল তৈরি করেছে, কেউ পরীক্ষার ‘‌মহড়া’‌ নিয়ে ঠিক সময়ে যাতে পরীক্ষার্থীরা উত্তরপত্র জমা করতে পারেন তার অনুশীলন করিয়েছে।

প্রেসিডেন্সি, রাজ্য প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা ম্যাকাউট এবং যাদবপুরের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ বাদ দিয়ে বাকি সব বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজেই বৃহস্পতিবার থেকে পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। ইউজিসি–র নিয়ম অনুযায়ী ২ ঘণ্টায় পরীক্ষা দিয়ে উত্তরপত্র জমা দেওয়ার জন্য পরীক্ষার্থীরা হাতে মাত্র আধঘণ্টা সময় পাবেন। পুরো পরীক্ষাই হবে অনলাইনে। অর্থাৎ, উত্তরপত্র স্ক্যান করে পিডিএফ ফাইল করে ই–মেলে পাঠাতে হবে। এই সময়টায় ইন্টারনেট পরিষেবা ভাল থাকার পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিষেবা সচল থাকাটাও খুব জরুরি। যে কারণে এদিন টুইট করে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘‌১ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত পরীক্ষার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা যাতে বজায় থাকে সে–ব্যাপারে সিইএসসি এবং রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাকে অ্যাডভাইসরি পাঠানো হয়েছে।’‌

পরীক্ষার পর ছাত্রছাত্রীরা যাতে আধঘণ্টায় উত্তরপত্র পাঠাতে পারে, তার জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ নিউ আলিপুর, সুরেন্দ্রনাথ, অ্যান্ডুজ, কে কে দাস, বঙ্কিম সর্দার, বেহালা কলেজের মতো বহু কলেজ পৃথক পোর্টাল তৈরি করেছে। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশ্ন পাঠানোর পরই তা আপলোড করা হবে এবং এখানে উত্তরপত্র জমা দেবে ছাত্রছাত্রীরা। অনেকে আবার পরীক্ষার ‘‌মহড়া’‌ও নিয়েছে। নিউ আলিপুর কলেজের অধ্যক্ষ জয়দীপ ষড়ঙ্গী বলেন, ‘‌আলাদা পোর্টালের পাশাপাশি আমরা ছাত্রছাত্রীদের সড়গড় করে তুলতে পরীক্ষার মহড়া নিয়েছি। সবাই ঠিক সময়েই উত্তরপত্র জমা দিতে পেরেছে। সব মিলিয়ে ৭৫০ জনের মতো ছাত্রছাত্রী ফাইনাল পরীক্ষা দেবে। পোর্টালে পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন এবং রোল নম্বর দিয়ে ঢুকতে হবে। উত্তরপত্র স্ক্যান করে পিডিএফ ফাইলে পাঠাতে বলা হয়েছে। পুরো বিষয়টি ১০ এমবি–র মধ্যে রাখতে বলা হয়েছে। ১০ এমবি মানে প্রায় ৩০ পাতা।’‌ সুরেন্দ্রনাথ কলেজের অধ্যক্ষ ইন্দ্রনীল কর বলেন, ‘‌পৃথক পোর্টালে অনার্স ও জেনারেলের জন্য আলাদা ই–মেল আইডি তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের পক্ষ থেকে ‘‌মকটেস্ট’‌ও নেওয়া হয়েছে। উত্তরপত্র পিডিএফ ফাইলে পাঠাবে সবাই। সেটা ২৫ এমবি–র মধ্যে রাখতে বলা হয়েছে। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। জেলাতেও অনেকে আছে। এখনও পর্যন্ত উত্তরপত্র পাঠাতে সমস্যা হবে এমন কোনও অভিযোগ আসেনি।’‌ লেডি ব্যাব্রোর্ন কলেজের অধ্যক্ষ শিউলি সরকার বলেন, ‘‌বিভিন্ন বিভাগের পক্ষ থেকে তিনবার ‘‌মকটেস্ট’‌ নেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন পেয়ে আপলোড করতে এবং পড়ুয়াদের কতক্ষণ লাগছে তা ডাউনলোড করতে সেটা দেখা হয়েছে। সবাই ঠিক সময়েই উত্তরপত্র জমা দিতে পারছে। কিছুজনের কয়েক মিনিট এদিন–ওদিন হচ্ছে। আশা করি পরীক্ষার দিন কোনও সমস্যা হবে না।’‌ কাকদ্বীপের সুন্দরবন মহাবিদ্যালয়ের টিচার ইনচার্জ প্রবীর দাস বলেন, ‘‌মকটেস্ট নেওয়া হয়েছে। তবে অনার্সের পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে সমস্যা না হলেও দূরত্বের জন্য জেনারেলের প্রায় ৪০০ মতো ছাত্রছাত্রীর পক্ষে অনলাইনে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এরা কলেজের কাছাকাছি আত্মীয় বা পরিচিতদের বাড়িতে বসে পরীক্ষা দেবে এবং আড়াইটের মধ্যে কলেজে খাতা জমা দেবে।’‌