• chanakyabangla

শীতকালে করোনার প্রকোপ বাড়বে নাকি কমবে! পরিবারের জন্য আগাম কী সতর্কতা নেবেন?


শীতকালে করোনার প্রকোপ বাড়বে নাকি কমবে! পরিবারের জন্য আগাম কী সতর্কতা নেবেন? কী বলছেন চিকিৎসকরা, জেনে নিন..

চানক্য বাংলা ওয়েব ডেস্ক:

সারা বিশ্বের ত্রাস এখন একটাই, ‘করোনা’। এই মারণ রোগের প্রকোপ থেকে বাদ যাচ্ছেন না কেউই। দ্রুত ভাইরাসকে জব্দ করতে ছোট বড় প্রায় সব দেশই জীবনদায়ী ভ্যাকসিন তৈরি শুরু করেছে। সরকারের তরফে প্রতিনিয়ত নতুন স্বাস্থ্যবিধি আনা হচ্ছে। বারবার সতর্ক করা হচ্ছে মানুষকে। সামনেই শীতকাল আসছে, সাধারণত বর্ষা এবং শীতকালেই ভাইরাস বৃদ্ধির আদর্শ সময় হিসেবে মনে করা হয়। কিন্তু ‘কোভিড-১৯’ এর ক্ষেত্রে যে সবটাই উলোটপুরাণ— এমনটাই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ।


ওয়ার্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন সংস্থা ‘হু’ এখনও পর্যন্ত করোনার জন্য আলাদা করে শীতকালীন কোনও গাইডলাইন জারি করেনি। এমনকি এই মহামারীর সঙ্গে যুক্ত কোনও বিশেষ কালের কথাও উল্লেখ করেনি হু। চিকিৎসকরা বলছেন, শীতকালে এমনিতেই ঠাণ্ডা লেগে নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা-সহ নানা রোগ মানুষের শরীরে বাসা বাধে। তার ওপর কোভিড-১৯’র লক্ষণের সঙ্গে এই ধরনের রোগের মিল রয়েছে। তবে শীতের সঙ্গে করোনার কোনও যে কোনও সম্পর্ক নেই, তা স্পষ্ট করেছেন সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের কোষাধ্যক্ষ, চিকিৎসক স্বপন বিশ্বাস। তিনি জানিয়েছেন, ‘চিনে উৎপত্তি হয়ে করোনা ২০১৯-এর ডিসেম্বর থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এরপর ১৩ মার্চ এই রোগকে মহামারী বলে ঘোষণা করে হু। ততদিনে প্রায় ৫০টি দেশে ছড়িয়ে যায় কোভিড। এরপর ধীরে ধীরে ২৫০টি দেশে থাবা বসায় এই মারণ ভাইরাস। ডিসেম্বর থেকে শুরু করে সেপ্টেম্বর, প্রায় ন’মাসের মধ্যে পৃথিবীর সমস্ত দেশ যদি পর্যবেক্ষণ করা যায়, তাহলে দেখা যাবে, ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়ার তারতম্য- সব ক্ষেত্রেই নির্বিচারে করোনা থাবা বসিয়েছে।’ স্বপনবাবু আরও বলেন, ‘অ্যাপিডেমিকের ক্ষেত্রে দেখা যায় মার্চ-এপ্রিল অর্থাত্ বসন্তকালে রোগের প্রকোপ বেশি থাকে। তারপর ধীরে ধীরে চলেও যায়। কিন্তু করোনার ক্ষেত্রে এইরকম কিছুই মেলেনি। তাছাড়া সবরকম আবহাওয়াতেই কোভিড-১৯ ভাইরাস ছড়ানোর প্রবণতা রয়ে গিয়েছে। শীতের দেশ বা গরমের দেশের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। তাই আলাদা করে শীতকালে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাবে এমনটা বলা যাচ্ছে না।’


চিকিৎসকদের মতে, যেহেতু ভ্যাকসিন এখনও আবিষ্কার হয়নি। তাই দেশের সরকারের হাতেই করোনা নিয়ন্ত্রণের মোক্ষম অস্ত্র রয়েছে। যে দেশ যত ভালো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, সেই দেশে তত কম ভাইরাস ছড়াবে। ঠাণ্ডা-গরমের ওপর কিছু নির্ভরশীল নয়। ভাইরাস ছড়ানো নির্ভর করছে, কেবলমাত্র সেই দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর। যে দেশে যত ভালো টেস্টিং হবে, তত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে গোটা বিষয়টা। ‘আর্লি ডিটেকশন অ্যাণ্ড আর্লি ট্রিটমেন্ট’ এই বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে চিকিৎসার কাজ চলছে সারা বিশ্বে।'


কী কী বাড়তি সতর্কতা নেবেন এই শীতে?

শীতের পোষাকের সঙ্গে এবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। কোনওভাবেই এর অন্যথা করা যাবে না। এখনও অনেক মানুষের মধ্যেই মাস্ক পরায় অনীহা দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ গলায় মাস্ক ঝুলিয়ে রাখছেন। এতে সংক্রমণ দ্রুত বাড়বে বই কমবে না। তাই আইন লাগুর মধ্য দিয়ে সতর্কতা জারি করা হলে, এই সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ডায়েরিয়া রোগীদেরও করোনা ধরা পড়ছে। এক্ষেত্রে হাইজিন মেন্টেন করে খাদ্যাভ্যাস জরুরি। প্রতিদিন খাদ্যের মধ্যে ভিটামিন ‘ডি’, ‘সি’ রাখলে উপকার পাওয়া যাবে, বাড়বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও।