• চাণক্য বাংলা

সারারাত সংসদ প্রাঙ্গণে ধরনা বরখাস্ত ৮ সাংসদের,বরফ গলাতে ভোরে চা নিয়ে গেলেন ডেপুটি চেয়ারম্যান


চাণক্য বাংলা নিউজ ডেস্ক :

রাজ্যসভা চলাকালীন কৃষিবিল পাশের বিরোধিতা করে নিয়মবিরুদ্ধ আচরণের অভিযোগ উঠেছে আট সাংসদের বিরুদ্ধে। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলে সাসপেন্ডও করা হয়েছে তাঁদের। সোমবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডুর এই সিদ্ধান্তের পর থেকে উত্তাল রাজ্যসভা কক্ষ।


সোমবার সারারাত সংসদ ভবনের বাইরে ধরনায় রাত কাটান বিরোধী দলের আট সাংসদ। মঙ্গলবার ভোর হতেই রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ সিং তাঁদের চা খাওয়ার প্রস্তাব দেন। তাতেও বরফ গলেনি। বিক্ষোভরত সাংসদরা প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। একইসঙ্গে ‘চা-রাজনীতি’ কৃষি বিলের পরিপন্থী বলে কটাক্ষ করেছেন তাঁরা। যদিও চা-এর প্রস্তাবকে উদার ও মানবিকতার মুখ হিসেবেই দেখছে কেন্দ্র।

এদিকে বিতর্কিত কৃষি বিলকে কেন্দ্র করে সরকার-বিরোধীদের বিরোধের পারদ ক্রমশ চড়ছে। রবিবার জোড়া কৃষি বিল পাশের প্রতিবাদে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে রাজ্যসভা কক্ষ। বিল পাশের প্রবল বিরোধিতা করতে দেখা যায় কংগ্রেস, তৃণমূল, অকালি দল, ডিএমকি, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টির সাংসদদের। অভিযোগ ওঠে, ওয়েলে নেমে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ সিংয়ের কাছ থেকে রাজ্যসভার রুল বুক ছেঁড়ার চেষ্টা করেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন। এমনকি হরিবংশের মাইক্রোফোনও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। একইসঙ্গে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান অনেকেই। এই কারণ দর্শিয়ে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন, দোলা সেন- সহ রাজ্যসভার আট বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে আজ। সাসপেন্ড করা সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের ডেরেক ও ব্রায়েন, দোলা সেন, কংগ্রেসের রাজু সাতাভ, রিপুণ বোরা ও সৈয়দ নাজির হুসেইন, সিপিএমের কে কে রাগেশ ও এলামারাম করিম এবং আম আদমি পার্টির সঞ্জয় সিং।

এরপরই বরখাস্ত হওয়া সাংসদদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংসদদের সাসপেন্ডের সিদ্ধান্তে তীব্র বিরোধীতা করেন তিনি। বিকেলে সকল সাংসদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন। এমনকি তিন কংগ্রেস সাংসদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি৷ রাতারাত হাতে সরকার-বিরোধী পোস্টার নিয়ে স্লোগান তুলে ধরনা দিয়েছেন সাংসরা। তাঁদের দাবি, সাসপেনশন প্রত্যাহার না-হওয়া পর্যন্ত তাঁরা অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন তাঁরা৷ বিক্ষোভরত সাংসদদের সমর্থন জানান বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীরাও৷ সাসপেন্ডের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধিও৷