• chanakyabangla

হাথরাসে তরুণীর ধর্ষণ হয়নি, দাবি ফরেন্সিক রিপোর্টেও


হাথরাসে তরুণীর ধর্ষণ হয়নি, দাবি ফরেন্সিক রিপোর্টেও

চানক্য বাংলা ওয়েব ডেস্ক:

হাথরাসকাণ্ডে তরুণীর শরীরে নিগ্রহের চিহ্ন পাওয়া গেলেও ধর্ষণ করা হয়নি। এমনই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট পেশ করল আগ্রার একটি ফরেন্সিক ল্যাব। এই রিপোর্ট কার্যত উত্তরপ্রদেশ পুলিশের রিপোর্টকে সিলমোহর দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নির্যাতনের ১১দিনের মাথায় তরুণীর ভিসেরা নমুনা হাসপাতলে পাঠানো হয়। কাজেই রিপোর্টে ‘সত্যতা’ কত অংশে থাকবে, সেই জল্পনাই সামনে এসেছে।

সূ্ত্রের খবর, আগ্রার ফরেন্সিক ল্যাবে হাথরাসে গণধর্ষিতা তরুণীর ভিসেরা পরীক্ষা করা হয়েছে। ওই পরীক্ষাগারের চূড়ান্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘নির্যাতিতার গোপনাঙ্গে পেনিট্রেশনের কোনও চিহ্ন মেলেনি। মেলেনি বীর্যও। তবে শারীরিক নিগ্রহের প্রমাণ মিলেছে। ঘাড়ে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’ অর্থাৎ হাথরাসে ওই দলিত তরুণীর ধর্ষণই হয়নি বলে ফরেন্সিক রিপোর্টেও দাবি করা হল।

সম্প্রতি সেই রিপোর্ট সাদাবাদ পুলিশ স্টেশনের সার্কেল অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। আর এই রিপোর্টই আদালতে পেশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের তরফেও।

তবে প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছিল, যৌনাঙ্গে পেনিট্রেশনের চিহ্ন মিলেছে। আবার ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়, নির্যাতিতার ভিসেরায় বীর্যের উপস্থিতি ছিল না। ইতিমধ্যেই রিপোর্টের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের দাবি, ১৪ সেপ্টেম্বর হাথরাসে ওই দলিত তরুণীকে গণধর্ষণ করা হয়। ২২ সেপ্টেম্বর তাঁর ভিসেরা নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং ২৫ সেপ্টেম্বর তা ফরেন্সিক পরীক্ষাগারে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। অর্থাৎ নির্যাতনের ১১ দিন পর ভিসেরা নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। ফলে তাতে বীর্যের উপস্থিতি না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তারই মধ্যে রাতারাতি পুলিশ ওই তরুণীর দেহ সৎকার করে দেয়। সবকিছু মিলিয়ে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ এবং প্রশাসনের দিকেই আঙুল উঠছে। তাহলে কি রিপোর্ট ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই এত ঢিলেমি? এত লুকোছাপা?

অন্যদিকে, এই রিপোর্টকে হাতিয়ার করে উত্তরপ্রদেশের এক বর্ষীয়ান পুলিশ আধিকারিক প্রশান্ত কুমার দাবি করেন, দলিত তরুণীর ধর্ষণই হয়নি। জাতপাতের রাজনীতি করার জন্যই তথ্য বিকৃত করা হচ্ছে। এই একই দাবি উঠেছিল রবিবারে ১৪৪ ধারা লাগু হওয়া হাথরাসে বিজেপির জমায়েতেও।