• chanakyabangla

২৪ ঘণ্টায় নাটকের ইতি : ইস্তফার সিদ্ধান্ত বদল সৌমিত্র খাঁ’র


২৪ ঘণ্টায় নাটকের ইতি : ইস্তফার সিদ্ধান্ত বদল সৌমিত্র খাঁ’র

চানক্য বাংলা ওয়েব ডেস্ক:

২৪ ঘণ্টা পেরতে না পেরতেই যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি পদে প্রত্যাবর্তন করলেন সৌমিত্র খাঁ!—মহাসপ্তমী এবং মহাষ্টমী মিলিয়ে বঙ্গ বিজেপির অন্দরের এক অন্য নাটক দেখলেন বাংলার মানুষ।


যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পাশাপাশি সংগঠনের পদাধিকারিদের নিয়ে সংগঠিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও প্রত্যাবর্তন করলেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। দুপুরে সৌমিত্রবাবু ওই গ্রুপে ফিরে লিখেছেন, ‘কোনও কমিটি বদল হচ্ছে না। আর আমার তোমাদেরকে ছেড়ে থাকা সম্ভব নয়, তাই ফিরে এলাম, টিএমসিকে হারানোর জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে রাজি আছি। জয় শ্রী রাম, জয় মা দুর্গা, বিজেপি জিন্দাবাদ, মোদিজি জিন্দাবাদ।’


দুপুর দেড়টা নাগাদ আমরা রাজ্য বিজেপি যুব মোর্চার সহ-সভাপতি শঙ্কুদেব পাণ্ডার সঙ্গে যোগযোগ করেছিলাম। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে সৌমিত্র খাঁর প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছিল আগেই। সেই কথাই সত্যি হল। শেষ পর্যন্ত কিছুটা হলেও ক্ষতে প্রলেপ দিতে পারল বিজেপি। তবে রাজ্য গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর, সম্পূর্ণ বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা হবে পুজোর পর। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, সবটাই ঘটেছে হোয়াটসঅ্যাপে। সেবিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। যা ঠিক হবে, সব পুজোর পর। এদিন সৌঁমিত্র খাঁর সঙ্গে ফোনে কোনও রকমভাবে যোগাযোগ করা যায়নি।


প্রসঙ্গত, অষ্টমীর সকালে ‘বিজেওয়াইএম ওয়েস্টবেঙ্গল অফিসিয়াল’ নামে যুব মোর্চার রাজ্য পদাধিকারিকদের নিয়ে সংগঠিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়েও বেরিয়ে যান তিনি। এবং রাজ্য যুব মোর্চার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা ঘোষণা করেন। এদিন সকালে বিজেপি যুব মোর্চা ওয়েস্ট বেঙ্গল অফিসিয়াল নামে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সৌমিত্র খাঁ লেখেন, ‘শুভ মহাষ্টমী। সকলে ভাল থাকবেন। আপনাদের খুবই সহযোগিতা পেয়েছি। আমি চাই বিজেপিকে সরকারে আনতেই হবে। তাই হয়তো আমার অনেক ভুল ছিল যা দলের প্রতি ক্ষতি হচ্ছিল। তাই আমি ইস্তফা দেব। আর সকলে ভাল থাকবেন। যুব মোর্চা জিন্দাবাদ। বিজেপি জিন্দাবাদ। মোদিজি জিন্দাবাদ।’ উল্লেখ্য, বিষ্ণুপুরের এই সাংসদের বিরুদ্ধে বিজেপির কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, যুব সংগঠনের নতুন জেলা সভাপতিদের বেছে নেওয়ার আগে বিজেপির সংশ্লিষ্ট জেলা সভাপতিদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করছিলেন না সৌমিত্র। অনেকদিন ধরেই সেই অভিযোগ আসছিল বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কাছে। এরপর সপ্তমীর দিন অর্থাৎ শুক্রবার দিলীপ ঘোষ জেলা যুব মোর্চা কমিটিগুলিকে ভেঙে দেন। বরখাস্ত করেন জেলা সভাপতিদেরও। এদিকে, রাজ্যের সমস্ত জেলা কমিটি এবং জেলা সভাপতিরা মনোনীত ছিলেন সৌমিত্র খাঁয়ের। দিলীপ ঘোষের এই পদক্ষেপের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই, আজ সৌমিত্র যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা ঘোষণা করলেন। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আবার মত পরিবর্তন করে সংগঠনিক পদে প্রত্যাবর্তন করেন সৌমিত্র খাঁ।